৩১ মার্চের মধ্যে ফের নির্বাচন দেওয়ার দাবি নুরের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফল বাতিল করে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ফের নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। তবে পরে তিনি ভিপি পদে শপথ নেবেন বলেও জানান।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) বাম ঐক্যের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এসব কথা বলেন। একইসঙ্গে ডাকসু নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘ছাত্ররা যে রকম আশা করেছিল, সে রকম নির্বাচন হয়নি। ছাত্রলীগ বাদে সবাই গতকাল ভোট বর্জন করেন। কারচুপি করেও আমাদের ঠেকাতে পারেনি। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে আমি বলতে চাই, যেহেতু আরও অনেক প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, আমরা তাদের দাবির সঙ্গে একমত। এ নির্বাচন পুনরায় হতে হবে এবং নির্বাচনে যারা দায়িত্ব পালন করেছে তাদের পদত্যাগ করতে হবে; অন্যদের অধীনে আমরা নির্বাচনে অংশ নেবো।’

তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের আগের নির্দেশনা অনুসারে ৩১ মার্চের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন হোক।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে, সব পদ নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ ছাত্ররা একচেটিয়া ভোট দিয়েছে ভিপি ও সমাজসেবা পদে; যে কারণে তারা ইঞ্জিনিয়ারিং করেও ওই দুই পদ নিতে পারেনি।’
আবার নির্বাচন হলে পুরো প্যানেল জয়ী হবে মন্তব্য করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যে কোনও আন্দোলনে সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
ছাত্র ধর্মঘট প্রসঙ্গে নুর বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করছি। তাদের সুবিধার্থে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি। তবে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংগঠন যদি ফের কোনও কর্মসূচি দেয়, তাহলে সমর্থন দেবো।’
ছাত্রলীগের সভাপতি ও ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের সঙ্গে কোলাকুলির প্রসঙ্গে নুর বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা যখন সুবিধাজনক মনে করে, যখন আমাদের লাগে, তখন বুকে টেনে নেয়। আবার যখন মনে করে আমরা শত্রু, তখন মার দেয়। তার উদাহরণ আমরা গতকালও দেখেছি। বেগম রোকেয়া হলে ছাত্রলীগ নেত্রীরা আমাদের মেরেছে। গত ৩০ জুনও তারা আমাকে মেরেছিল। আজকেও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে আমি টিএসসিতে এসেছি, কিন্তু আমাকে তারা ধাওয়া দিয়েছে। তাদের মুখে মধু, অন্তরে বিষ। তাদের বিশ্বাস করাটা খুব টাফ।’
তিনি দাবি করেন, ‘মিথ্যা অভিযোগে মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা খুব অবাক হয়েছি। তিনি একজন হলের প্রাধ্যক্ষ। আমার যদি শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা না থাকতো, তারা আমাকে ভিপি নির্বাচিত করতো না। রোকেয়া হলে প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়েছে, কোনও লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেনি। সেটাকে কেন্দ্র করে যদি কোনও মামলা হয়, তা দ্বারা আমাদের কিছু হবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *