পর্যটকরাও ধরা পড়লে পাথর ছুড়ে হত্যা করবে ব্রুনাই

ব্রুনাই সরকার ইসলামি শরিয়া আইন চালু করেছে। বুধবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এ দেশটির সুলতান হাসানাল বলকিয়া এ আইন চালুর ঘোষণা দেন। তবে এ নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাঝে নানা প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

নতুন ইসলামি শরিয়া ভিত্তিক আইনে বলা হয়েছে, সমলিঙ্গের মধ্যে যৌন সম্পর্ক, বিবাহ বহির্ভূত যৌনতা, ধর্ষণ এবং নবী (সা.) কে অবমাননার মতো অপরাধের শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। শরিয়াহ আদালতে রায় হলে অর্ধেক মাটিতে পুতে পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। এছাড়াও চুরি ও ভ্রুন নষ্ট করার মতো অপরাধের শাস্তি হিসেবে হাত কেটে নেওয়ার বিধান থাকছে নতুন আইনে।

দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ আইন শুধু স্থানীয়দের জন্য নয়, ভ্রমণরত পর্যটকদের জন্যও প্রযোজ্য হবে এটি। পর্যটকরাও ধরা পড়লে পাথর ছুড়ে হত্যা করবে ব্রুনাই।

ব্রুনাইয়ে চালু হওয়া ইসলামি শরিয়াহ আইনের কিছু দিক অমুসলিমদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। ওই আইনে ১৮ বছরের কম বয়সী মুসলিম শিশুদের ‘ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের শিক্ষা গ্রহণের’ জন্য ‘প্ররোচিত বা উৎসাহিত’ করাটাকে অপরাধমূলক দণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

যদিও ব্রুনাই সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসান আল-বলখাই বুধবার (৩ এপ্রিল) জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণ দেন।

সুলতান হাসান আল-বলখাই বলেন, আমি ইসলামিক শিক্ষাকে এই দেশে শক্তিশালী করতে চাই।

দেশটিতে আগেই সমকামিতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করা হয়েছে। তবে চালু হওয়া নতুন আইন অনুযায়ী সমলিঙ্গের মধ্যে যৌন সম্পর্কের শাস্তির জন্য ৪ জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর প্রয়োজন হবে।

ব্রুনাইয়ে বর্তমানে সমকামি অপরাধের জন্য শাস্তি রয়েছে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ব্রুনাই এর সমকামী গোষ্ঠী নতুন হওয়া আইনের ঘোষণায় হতাশ এবং ভীত। গোষ্ঠীরা এই শাস্তিকে ‘মধ্যযুগীয় শাস্তি’ বলে অভিহিত করেছেন।

দ্বীপ রাষ্ট্র ব্রুনাই বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে বেশ সমৃদ্ধ। সুলতান শাসিত দেশটি বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস রপ্তানি করে থাকে। বর্তমানে সুলতানের বয়স ৭২ বছর। তিনি ব্রুনাইয়ের বিনিয়োগ সংস্থার প্রধান।

জানা যায়, বিশ্বের কিছু শীর্ষ হোটেলের মালিক তিনি। এর মধ্যে রয়েছে- লস অ্যাঞ্জেলসের বিবিয়ারলি হিলস হোটেল ও লন্ডনের ডর্চেস্টার হোটেল।

৪ লাখ ২০ হাজার জনসংখ্যার এই দেশটিতে মুসলমান রয়েছে দুই তৃতীয়াংশের মতো। ব্রুনাইতে মৃত্যুদণ্ড থাকলেও ১৯৫৭ সালের পর তা দণ্ড হিসেবে কার্যকর করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ব্রুনাইয়ের এই শরিয়া দণ্ডবিধির প্রথম অংশটি ২০১৩ সালে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *