ভূরুঙ্গামারীতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক কিশোরীর সন্তান প্রসব; পিতৃ পরিচয়ের জন্য ঘুরছে সমাজ পতিদের দ্বারে দ্বারে

মোঃমনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরী একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে। সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের জন্য সমাজ পতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ঐ কিশোরীর ভিক্ষুক নানী।ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের বেলদহ গ্রামে। জানাগেছে, নানীর কাছে আশ্রিত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরী আরজিনা (১৪) প্রতিবেশী নানা নইমুদ্দিন (৫৫)কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়ে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি জানা জানি হয়।এলাকার সচেতন মহল বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আবু মেম্বার এর মধ্যস্থতায় শালিসি বৈঠকে বসে।কিন্তু ধর্ষক নইমুদ্দিন এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় শালিসের কোন আপোস মিমাংসা মানে না। পরবর্তীতে এলাকা বাসী গত ১৪জুন ভূরুঙ্গামারী থানায় নইমুদ্দিনের নামে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। মামলা নং ১০ জিআর ১২১/১৯। মামলা দায়েরের চার মাস অতিবাহিত হলেও ধর্ষক নইমুদ্দিনকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে গত ৩ সেপ্টেম্বর অন্তঃসত্ত্বা ঐ কিশোরী একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়। ভুক্তভোগী কিশোরীর নানী রাবেয়া বেগম জানান- বাচ্চাটা হওয়ার পর মেম্বার চেয়ারম্যান সহ সবার কাছে গেছি কিন্তু আমরা গরীব বলে কেউ আমাক পাত্তা দেয় নাই। পরে গত শুক্রবার নইমুদ্দিনের ছেলে রাজু ও আতিকুর রহমান নামের এক লোক আমার কাছে এসে বলে আপনাকে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হবে। কোন বিয়ে বা বাচ্চার দায়িত্ব নেয়া হবে না। আমি এ প্রস্তাবে রাজি হই নাই। টাকা পয়সা দিয়া মিমাংসা চাই না । আমার নাতনী ও তার বাচ্চার বাপের পরিচয় চাই।এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাইকের ছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন প্রথম দিকে আমি স্থানীয় ভাবে বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু অভিযুক্ত নইমুদ্দিন প্রথমে রাজি হলেও পরবর্তীতে সে গা ঢাকা দেয়। সে কারণে মিমাংসা করা সম্ভব হয় নাই। জানতে চাইলে ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম জানান,আসামী পলাতক রয়েছে, আমরা তার অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা জানতে পেরেছি। তদন্তের স্বার্থে তা বলা যাচ্ছে না। তবে আসামীকে খুব দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *